শীতার্ত মানুষের সহায়তার উদ্দেশ্যে ‘স্পিরিটস অব জুলাই’ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)-এর যৌথ উদ্যোগে গত শনিবার আয়োজন করা হয় চ্যারিটি কনসার্ট ‘কুয়াশার গান’। তবে কনসার্ট চলাকালে একটি তামাক কোম্পানির ছায়া প্রতিষ্ঠান ‘এক্স ফোর্স’-এর পক্ষ থেকে স্মোকিং জোন স্থাপন এবং বিনামূল্যে সিগারেট বিতরণের ঘটনা সামনে আসায় ক্যাম্পাসজুড়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়। শিক্ষার্থীদের একটি অংশের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় প্রকাশ্য ধূমপানের ওপর কড়াকড়ি আরোপ করা হলেও ডাকসুর আয়োজিত কনসার্টে তামাকজাত পণ্যের বিতরণ সেই নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
বিষয়টি নিয়ে সমালোচনার মুখে ডাকসুর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মোসাদ্দেক আলী ইবনে মোহাম্মদ তার ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দুঃখ প্রকাশ করেন। পোস্টে তিনি জানান, স্পন্সর প্রতিষ্ঠানটি একটি ‘এক্সপেরিয়েন্স জোন’ এবং সীমিত পরিসরে একটি স্মোকিং জোন স্থাপনের কথা জানিয়েছিল, যাতে ধূমপানের কারণে অন্যদের সমস্যা না হয়। তবে ওই স্মোকিং জোনে বিনামূল্যে সিগারেট বিতরণ করা হবে—এ তথ্য তার জানা ছিল না বলে তিনি দাবি করেন।
পোস্টে আরও উল্লেখ করা হয়, কনসার্ট আয়োজনের বিষয়টি নিয়েই ডাকসুর ভিপি ও জিএসের আপত্তি ছিল। এর আগে নভেম্বরের শেষ দিকে তিন দিনব্যাপী একটি কনসার্টের প্রস্তুতি থাকলেও ভিপি ও জিএসের অনুরোধে সেটি বাতিল করা হয়। পরবর্তীতে শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার কথা বিবেচনায় নিয়ে ‘স্পিরিটস অব জুলাই’-এর সঙ্গে যৌথভাবে এই কনসার্ট আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যদিও সেখানেও আপত্তি ছিল বলে জানান তিনি।
এ ঘটনায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তাদের ভাষ্য, দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী পাবলিক প্লেসে ধূমপান দণ্ডনীয় অপরাধ। “ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫” অনুযায়ী পাবলিক প্লেসে ধূমপানের জন্য সর্বোচ্চ দুই হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে। সেই আইন উপেক্ষা করেই ডাকসুর আয়োজিত কনসার্টে প্রকাশ্যে ধূমপান ও সিগারেট বিতরণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের।