1. live@www.cityinsidernews.com : - : -
  2. info@www.cityinsidernews.com : City Insider News :
বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬, ০১:৩৮ পূর্বাহ্ন

মব’ শব্দে বিপ্লব প্রশ্নবিদ্ধ করার মানসিকতা আছে: তাজুল ইসলাম

প্রতিনিধির নাম :
  • প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৩৪ বার পড়া হয়েছে

বিশেষ প্রতিবেদকঃ

মব’ শব্দটি ব্যবহারের পেছনে বিপ্লবকে প্রশ্নবিদ্ধ করার একটি মানসিকতা কাজ করে বলে মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম। এ কারণে শব্দটি ব্যবহারে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

রোববার (১৮ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং আইনের শাসন’ শীর্ষক নীতি সংলাপে তিনি এসব কথা বলেন। সংলাপটির আয়োজন করে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস)।

তাজুল ইসলামের বক্তব্যের পরপরই সংলাপে অংশ নেওয়া একাধিক বক্তা তাঁর মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করেন। বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স এবং বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ এই বক্তব্যকে ‘থ্রেট’ হিসেবে দেখছেন বলে জানান।

সংলাপে রাজনৈতিক নেতা, আইনজীবী, মানবাধিকারকর্মী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। আলোচনায় বিচার বিভাগের স্বাধীনতার পাশাপাশি দেশে মব পরিস্থিতির প্রসঙ্গও উঠে আসে।

সংলাপের সূচনা বক্তব্যে সিজিএসের নির্বাহী পরিচালক পারভেজ করীম আব্বাসি বলেন, এখন বিচার বিভাগের শাসন নয়, মবোক্রেসির শাসন দেখা যাচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিচার চলছে। পরিস্থিতি যদি এমন হয় যে তথাকথিত তৌহিদি জনতা আইন নিজের হাতে তুলে নেয় এবং অপরাধীদের শাস্তি দিতে গড়িমসি চলে, তাহলে আইনের শাসন নিশ্চিত করতে যত প্রতীকী ব্যবস্থাই নেওয়া হোক, তা যথেষ্ট হবে না।

আইনের শাসন নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে জাতীয় পার্টির মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, বিপ্লবের আগে কিংবা পরে যেকোনো সময় অন্যায়কে প্রশ্রয় দিলে তা একসময় ফিরে আসবেই। তিনি বলেন, মবকে একসময় অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল, এখন সেই মব সরকারকে গ্রাস করছে, নির্বাচন কমিশনকে গ্রাস করছে, এমনকি দেশকেও গ্রাস করতে পারে।

এই দুই বক্তার বক্তব্যের প্রেক্ষাপটে তাজুল ইসলাম বলেন, গণভবনের পতনের যে আন্দোলন হয়েছে, তার সঙ্গে যদি কেউ রাস্তায় ছিনতাই করে বা কোনো ধর্মীয় সংখ্যালঘুকে পিটিয়ে হত্যা করে, তাহলে এই দুটি ঘটনাকে এক করে দেখা যাবে না। তাঁর ভাষায়, ‘মব’ শব্দ প্রয়োগের আগে অবশ্যই খুব সতর্ক থাকতে হবে।

তিনি আরও বলেন, গণভবনের পতনের মধ্য দিয়ে যে বিপ্লবী অর্জন এসেছে, তার সঙ্গে বারবার ‘মব’ শব্দ ব্যবহার করে বিপ্লবীদের প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা কোনো কোনো মহলে থাকলে তাদের সংযত হওয়া উচিত।

তাজুল ইসলামের বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করে রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, আইনের শাসনের কথা বলবেন, আবার মবকে উসকানি দেবেন, এটা বাংলাদেশে চলতে পারে না। বিএনপি নেত্রী নিলুফার চৌধুরীও তাজুল ইসলামের বক্তব্যের সমালোচনা করেন।

সংলাপের সঞ্চালক সিজিএসের প্রেসিডেন্ট জিল্লুর রহমান বলেন, এই টেবিলেই সরকারের একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি একসময় বলেছিলেন, মব বলে কিছু নেই, এরা হচ্ছে প্রেশার গ্রুপ। এই ধরনের ব্যাখ্যা দাঁড় করানোর কিছুদিন পরই দেখা গেছে, প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের মতো সংবাদমাধ্যমে মব নিয়ে আলোচনা কমে গেছে। এখন আবার যখন মবের পক্ষে কথা বলা শুরু হয়েছে, তখন আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে যে সামনে হয়তো আরও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা বা দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

সংলাপ শেষে অংশগ্রহণকারীরা বলেন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও আইনের শাসন নিশ্চিত না হলে মব সংস্কৃতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে, যা রাষ্ট্র ও সমাজের জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন: ইয়োলো হোস্ট