নির্বাচনের সময় যত ঘনিয়ে আসছে, ততই স্পষ্ট হচ্ছে রাজনৈতিক সমঝোতা, পারস্পরিক সম্মান এবং আসন ছাড়ের বাস্তব চিত্র। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন মঙ্গলবার বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের একাধিক প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। কোথাও আদর্শিক মিল, কোথাও নেতৃত্বের প্রতি শ্রদ্ধা—এসব কারণেই নেওয়া হয়েছে এই সিদ্ধান্ত।
এর ফলে সংশ্লিষ্ট আসনগুলোতে প্রতিযোগিতার সমীকরণে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
ঢাকা-১৭ আসনে বিএনপির চেয়ারপারসন তারেক রহমান ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এই আসনে তার প্রতি ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক সম্মান দেখিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার এম সরওয়ার হোসেন মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন।
সাংবাদিকদের তিনি জানান, তিনি দীর্ঘদিন জাতীয়তাবাদী আদর্শে বিশ্বাসী হিসেবে বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের নেতৃত্বে রাজনীতি করে আসছেন। সেই রাজনৈতিক বিশ্বাস ও নেতৃত্বের প্রতি শ্রদ্ধা থেকেই তিনি নির্বাচনী দৌড় থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
অন্যদিকে, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হকের প্রতি সম্মান জানিয়ে আগেই দুটি আসনে প্রার্থী প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছিল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। মঙ্গলবার দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব গাজী আতাউর রহমান জানান, ঢাকা-১৩ আসনে দলীয় প্রার্থী মো. মুরাদ হোসেন এবং বাগেরহাট-১ আসনে মুজিবুর রহমান শামীম তাদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন।
এছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীমের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে বরিশাল-৫ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মুয়াযযম হোসাইন হেলাল নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।
এর আগে ভোলা-১ আসনে বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থের প্রতি সম্মান জানিয়ে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী গোলাম নবী আলমগীর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন।
মনোনয়ন প্রত্যাহারের এসব সিদ্ধান্ত নির্বাচনে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও রাজনৈতিক সৌজন্যের একটি নতুন দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে এসব আসনে ভোটের মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকে এখন নজর রাজনৈতিক অঙ্গনের।