ক্রীড়া ডেস্কঃ
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে বড় ধরনের অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট। আইসিসির দেওয়া ২৪ ঘণ্টার সময়সীমার মধ্যে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল।
বাংলাদেশ স্পষ্ট জানিয়েছে, ভারতে ম্যাচ আয়োজন হলে তারা বিশ্বকাপে অংশ নেবে না। তবে বিকল্প হিসেবে শ্রীলঙ্কায় ম্যাচ আয়োজন করা হলে বিশ্বকাপ খেলতে প্রস্তুত রয়েছে দল। এ বিষয়ে পুনরায় ভেন্যু পরিবর্তনের অনুরোধ জানিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলকে (আইসিসি) চিঠি পাঠিয়েছে বিসিবি।
আইসিসি এই অনুরোধ বিবেচনায় নেবে কি না, সেটি এখন সময়ের অপেক্ষা। তবে অনুরোধ প্রত্যাখ্যাত হলে বিশ্বকাপ মাঠে নয়, দর্শক হিসেবেই দেখতে হতে পারে বাংলাদেশকে। আর তাতেই সৃষ্টি হবে একের পর এক বড় সংকট।
আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা
বিশ্বকাপে অংশ না নিলে বিসিবির সবচেয়ে বড় ক্ষতি হবে আর্থিক দিক থেকে। ভারতীয় সংবাদ সংস্থা পিটিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, আইসিসি থেকে বার্ষিক প্রায় ৩৩০ কোটি ২১ লাখ টাকার রাজস্ব অংশ হারানোর ঝুঁকিতে পড়তে পারে বাংলাদেশ। বিসিবির মোট আয়ের প্রায় ৬০ শতাংশই আসে আইসিসি থেকে, যা এক ধাক্কায় কমে যেতে পারে।
এমনকি ২০২৮ সাল থেকে শুরু হওয়া পরবর্তী তিন বছরের জন্য আইসিসির বরাদ্দও কমিয়ে দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সম্প্রচার ও স্পনসরশিপে বড় ধাক্কা
বিসিবির আয়ের বড় একটি অংশ আসে সম্প্রচারস্বত্ব এবং স্পনসরশিপ থেকে। বাংলাদেশ বিশ্বকাপে না খেললে এই খাতেও বড় লোকসান গুনতে হবে সংশ্লিষ্টদের।
ভারতীয় ক্রীড়া মাধ্যম ‘রেভস্পোর্টজ’-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অফিসিয়াল সম্প্রচারক টি-স্পোর্টস প্রায় ৩০০ কোটি টাকার ক্ষতির মুখে পড়তে পারে। পাশাপাশি বিজ্ঞাপনী সংস্থাগুলোর সম্ভাব্য লোকসান দাঁড়াতে পারে প্রায় ১০০ কোটি টাকা।
অংশগ্রহণ ফি ও খেলোয়াড়দের ক্ষতি
বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়ায় বাংলাদেশ হারাবে প্রায় ৩ কোটি ৬৬ লাখ টাকার অংশগ্রহণ ফি। পাশাপাশি টুর্নামেন্টের বিভিন্ন ধাপে অগ্রগতির মাধ্যমে যে বড় অঙ্কের প্রাইজমানি পাওয়ার সুযোগ থাকত, সেটিও থাকবে না।
এর প্রভাব পড়বে সরাসরি খেলোয়াড়দের ওপর। ম্যাচ ফি, পারফরম্যান্স বোনাস ও প্রাইজমানি—সব কিছু থেকেই বঞ্চিত হবেন ক্রিকেটাররা।
ভবিষ্যৎ ক্রিকেটেও নেতিবাচক প্রভাব
বিশ্বকাপ না খেললে ভবিষ্যৎ আসরগুলোতে সরাসরি খেলার সুযোগ হারানোর আশঙ্কা রয়েছে বাংলাদেশের। পাশাপাশি ভারতের সঙ্গে ক্রিকেটীয় সম্পর্ক আরও অবনতির দিকে যেতে পারে।
দ্বিপক্ষীয় সিরিজ কমে গেলে সেটিও আর্থিক ক্ষতির কারণ হবে। একই সঙ্গে আইসিসির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কমিটিতে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এমনকি শাস্তিমূলক ব্যবস্থা বা জরিমানার ঝুঁকিও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
সব মিলিয়ে, বিশ্বকাপ বর্জনের সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের ক্রিকেটকে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে একাধিক বড় চ্যালেঞ্জের সামনে।