1. live@www.cityinsidernews.com : - : -
  2. info@www.cityinsidernews.com : City Insider News :
বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬, ০১:৩৮ পূর্বাহ্ন

জামায়াত আমিরের নিরাপত্তায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ৭ সুপারিশ

নিজস্ব সংবাদদাতা
  • প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ২০ বার পড়া হয়েছে

ঢাকা: বাংলাদেশের সমসাময়িক রাজনীতির প্রেক্ষাপটে ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা: শফিকুর রহমান। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী রাজনৈতিক বাস্তবতায় তিনি একজন প্রভাবশালী জাতীয় রাজনৈতিক নেতা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছেন। এই প্রেক্ষাপটে উদ্ভূত অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে তার ওপর বহুমাত্রিক নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হয়েছে বলে মনে করছে সরকারের একটি গোয়েন্দা সংস্থা।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো সংস্থাটির একটি গোপন প্রতিবেদনে এসব ঝুঁকির কথা উল্লেখ করে ডা: শফিকুর রহমানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সাত দফা সুপারিশ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

গোপন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডা: শফিকুর রহমান ২০১৯ সালে প্রথমবারের মতো জামায়াতে ইসলামীর আমির নির্বাচিত হন এবং সম্প্রতি ২০২৬-২০২৮ মেয়াদের জন্য টানা তৃতীয়বারের মতো আমির হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তিনি পূর্ববর্তী আমিরদের তুলনায় তুলনামূলকভাবে ‘মডারেট’ বা নমনীয় নেতা হিসেবে পরিচিত। সংখ্যালঘু অধিকার, নারীদের কর্মসংস্থানসহ কয়েকটি ইস্যুতে তিনি প্রগতিশীল অবস্থান গ্রহণ করেছেন বলে বিশ্লেষকদের অভিমত।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ডা: শফিকুর রহমানের নিরাপত্তা ঝুঁকির ধরন বহুমাত্রিক। এর শেকড় যেমন দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বাস্তবতায় প্রোথিত, তেমনি আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতির সাথেও সম্পৃক্ত। বিশেষ করে ২০২৬ সালের আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তার জীবনের ওপর অভ্যন্তরীণ হুমকি বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হয়েছে।

গোয়েন্দা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের কিছু আন্ডারগ্রাউন্ড ক্যাডার ‘গুপ্ত ঘাতক’ ব্যবহারের মাধ্যমে তার বাসভবনের ওপর নজরদারি বা চোরাগোপ্তা হামলার পরিকল্পনা করতে পারে। গোপন সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, একটি মহলের অপতৎপরতার কারণে ডা: শফিকুর রহমানের বাসভবন সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারে। তিনি অতীতে একাধিকবার নিজ বাসভবন থেকে গ্রেফতার হওয়ায় বাসস্থানটি জনসম্মুখে পরিচিত, যা নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়িয়েছে।

ঢাকার মগবাজারে অবস্থিত জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়টিও প্রতিবেদনে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সংস্থাটির মতে, তুর্কি গোয়েন্দা সংস্থার সাথে সংশ্লিষ্ট বলে অভিযোগ ওঠা কিছু প্রতিষ্ঠান বা সত্তার মাধ্যমে ভবন সংস্কারের অর্থায়নের বিষয়টি সামনে আসায় আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর নজরে এটি থাকতে পারে। বিশেষ করে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সম্ভাব্য নজরদারির বিষয়টি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের উদাহরণ তুলে ধরা হয়েছে, যেটিকে একটি ‘টার্গেট কিলিং’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। মোটরসাইকেলে করে আসা মুখোশধারী আততায়ীরা প্রকাশ্য দিবালোকে তাকে হত্যা করে। প্রতিবেদনের ভাষ্য অনুযায়ী, ডা: শফিকুর রহমানের চলাচলের সময় একই ধরনের হামলা বা স্নাইপার অ্যাটাকের আশঙ্কা উড়িয়ে দেয়া যায় না।

উন্মুক্ত মাঠে সভা-সমাবেশ কিংবা নির্বাচনী প্রচারণার বড় জনসভায় ভাষণ দেয়ার সময়ও তার নিরাপত্তা ঝুঁকি রয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। ২০২৫ সালের জুলাই মাসে এক জনসভায় তিনি অসুস্থ হয়ে পড়ার ঘটনাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আসন্ন নির্বাচনী প্রচারণার সময় ভিড়ের মধ্যে আত্মঘাতী হামলা বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির মাধ্যমে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কার কথাও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ৫ আগস্ট আওয়ামী সরকার পতনের পর ‘ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের কৃতিত্ব’ কে নেবে- এই প্রশ্নকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে টানাপড়েন চলছে। বিএনপি, জামায়াত ও নবগঠিত ন্যাশনাল সিটিজেনস পার্টি (এনসিপি)-এর মধ্যে রাজনৈতিক ও মনস্তাত্ত্বিক বিরোধ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, আওয়ামী লীগ পরবর্তী বাংলাদেশে বিএনপি নিজেদের ক্ষমতার প্রধান দাবিদার হিসেবে দেখছে। অন্য দিকে জামায়াত ও এনসিপি আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) ব্যবস্থাভিত্তিক নতুন রাজনৈতিক কাঠামোর কথা বলছে। বিএনপি এই ব্যবস্থার ঘোর বিরোধী এবং প্রচলিত ফার্স্ট পাস্ট দ্য পোস্ট পদ্ধতিতে দ্রুত নির্বাচন চায়। এই মতপার্থক্য দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক জোট সম্পর্কেও ফাটল ধরিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, এই ত্রিমুখী রাজনৈতিক প্রতিযোগিতায় ডা: শফিকুর রহমানকে শারীরিকভাবে রাজনৈতিক মাঠ থেকে সরিয়ে দেয়ার ষড়যন্ত্র হতে পারে- এমন আশঙ্কা একেবারে উড়িয়ে দেয়া যায় না।

গোপন প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, বিগত ১৫ বছরে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর একটি অংশ রাজনৈতিকভাবে পক্ষপাতদুষ্ট হয়ে পড়েছিল। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়েও কিছু স্তরে ক্ষমতাচ্যুত সরকারের অনুগত কর্মকর্তারা সক্রিয় থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে, যারা দেশী-বিদেশী শক্তির হয়ে স্যাবোটাজ বা টার্গেট কিলিংয়ের ব্লু-প্রিন্ট সরবরাহ করতে সক্ষম।

ভারতের ক্ষেত্রে প্রতিবেদনে বলা হয়, ঐতিহাসিকভাবে দেশটি জামায়াতে ইসলামীকে ‘পাকিস্তানপন্থী ও কট্টরপন্থী’ সংগঠন হিসেবে বিবেচনা করে। ভারতের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো জামায়াতের পুনরুত্থানকে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নিরাপত্তার জন্য হুমকি মনে করতে পারে। যদিও ডা: শফিকুর রহমান সম্প্রতি ভারতীয় গণমাধ্যমে দেয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন, জামায়াত কোনো দেশের বিরুদ্ধে নয় এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে ভারতের সাথে সম্পর্ক চায়।

এ ছাড়া ফিলিস্তিনপন্থী অবস্থানের কারণে ইসরাইলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের নজরদারির ঝুঁকির কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সাথে তুরস্ক ও পাকিস্তানের সাথে জামায়াতের কৌশলগত ঘনিষ্ঠতাও আন্তর্জাতিক ঝুঁকি বাড়াতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। হোয়াটসঅ্যাপের দক্ষিণ এশীয় অফিস ভারতে অবস্থিত হওয়ায় এবং দেশটির আইটি আইন অনুযায়ী ‘ফার্স্ট অরিজিনেটর’ শনাক্ত করার সক্ষমতার বিষয়টিও প্রতিবেদনে ঝুঁকি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র প্রসঙ্গে প্রতিবেদনে বলা হয়, যদিও মার্কিন কর্মকর্তারা জামায়াত নেতাদের সাথে বৈঠক করেছেন, তবে কিছু থিংক ট্যাংক ও লবিং গ্রুপ জামায়াতকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করার চেষ্টা করছে, যা আন্তর্জাতিক সফর ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

এমন পরিস্থিতিতে গোয়েন্দা সংস্থাটি ডা: শফিকুর রহমানের জন্য উচ্চমাত্রার ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করেছে। সুপারিশগুলো হলো- ব্যক্তিগত গানম্যান, চলাচলের সময় পুলিশ এস্কর্ট ও বাসভবনে পোশাকি পুলিশ নিয়োগ। বাসস্থান, কার্যালয়, জনসভাস্থল ও চলাচলের সময় নিবিড় গোয়েন্দা নজরদারি। ব্যক্তিগত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পূর্ণাঙ্গ ব্যাকগ্রাউন্ড যাচাই। জনসভা ও কার্যালয়ে আর্চওয়ে, মেটাল ডিটেক্টর, ব্যাগেজ স্ক্যানারসহ মাল্টি-লেয়ার তল্লাশি ব্যবস্থা। দলের স্বেচ্ছাসেবকদের নিরাপত্তা বিষয়ে বিশেষ প্রশিক্ষণ। বাসস্থান ও কার্যালয়ের কার্যকর সুইপিং এবং প্রবেশ-প্রস্থান পথ সীমিত ও নিয়ন্ত্রিত রাখা। সিসিটিভি স্থাপন, সীমানা প্রাচীর সুরক্ষা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী নিরাপত্তা ব্যারিয়ার বা কাঁটাতারের বেড়া স্থাপন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন: ইয়োলো হোস্ট