
মিঠাপুকুর (রংপুর) প্রতিনিধি:
রংপুরের মিঠাপুকুরে এক স্কুলছাত্রীর সাথে অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন ও পরবর্তীতে বাল্যবিবাহ করার অভিযোগ উঠেছে মো: হালিম নামে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত মো: হালিম,বলদিপুকুর, শাহ আবুল কাসেম দ্বীমূখি উচ্চ বিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষার শিক্ষক। এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ অভিভাবক ও এলাকাবাসী ওই শিক্ষকের অপসারণ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত শিক্ষক মো: হালিম তার বিদ্যালয়েরই এক এসএসসি পরীক্ষার্থী ছাত্রীর সাথে দীর্ঘ দিন ধরে অনৈতিক সম্পর্কে লিপ্ত ছিলেন। বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। অভিযোগ রয়েছে, পরবর্তীতে ওই শিক্ষক ১৬ বছর বয়সী ওই ছাত্রীকে গোপনে বিয়ে করেন। আইনত ১৬ বছর বয়স বাল্যবিবাহের আওতাভুক্ত হওয়ায় এবং শিক্ষকের এমন নৈতিক স্খলনে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
বিদ্যালয়ের সচেতন অভিভাবক ও এলাকাবাসীর স্বাক্ষরিত অভিযোগপত্রে জানানো হয়েছে, শিক্ষক মো: হালিম নিজেই ওই ছাত্রীর সাথে সম্পর্কের কথা স্বীকার করেছেন। তারা বলেন, “শিক্ষক হলেন জাতি গঠনের কারিগর। সেখানে একজন শিক্ষকের এমন আচরণ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও বিদ্যালয়ের পরিবেশকে হুমকির মুখে ফেলেছে। অভিযুক্ত শিক্ষক বহাল থাকলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হবে।” স্থানীয়রা আরও অভিযোগ করেন যে, বিদ্যালয়ে শিক্ষার মান দিন দিন নিম্নগামী হচ্ছে, তার ওপর দুই সন্তান এবং স্ত্রী থাকার পরেও শিক্ষকের এমন কর্মকাণ্ডে অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত।
এ বিষয়ে মিঠাপুকুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ পারভেজ জানান, এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগের প্রেক্ষিতে অভিযুক্ত শিক্ষককে ইতোমধ্যে শোকজ (কারণ দর্শানোর নোটিশ) করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত শিক্ষকের অপসারণ চেয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ স্থানীয়ভাবে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। বিদ্যালয়ের শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে দ্রুত তদন্ত ও অভিযুক্তের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।